দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা মাঠের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত। তবে উৎসবমুখর এই আবহের পাশাপাশি মাথাচাড়া দিচ্ছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, খেলা ঘিরে অফলাইনে বাজি, সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, বিদেশি দেশের পতাকা টানানোর প্রতিযোগিতা এবং বিকট শব্দে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও বাঁশি বাজানোর কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
ফুটবল কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপ এলেই ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই দেখা যায় প্রিয় দলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। কিন্তু এই উন্মাদনার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে যায় অফলাইন বাজি বা জুয়ার প্রবণতা। চায়ের দোকান, বাজার ও আড্ডাকেন্দ্রে কে জিতবে, কে হারবে-তা নিয়ে বসছে বড় অঙ্কের বাজি। এতে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যক্তি মো. আকরাম হোসেন বলেন, বিশ্বকাপ আসলেই গ্রাম্য এলাকায় অফলাইন জুয়া ও সামাজিক দ্বন্দ্ব বেড়ে যায়। তাঁর মতে, খেলা উপভোগের নামে অনেকেই বাজিতে জড়িয়ে পড়েন, এতে পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান।
রমেশ নামে আরেক ব্যক্তি জানান, অনেকেই ভিন্ন দেশের পতাকা অনেক বড় করে টানাচ্ছেন, কিন্তু নিজের দেশের পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, ভিন্ন দেশের পতাকা অনেক বড় করতেছে, কিন্তু আমার দেশের পতাকা কে অমান্য করতেছেন-এটা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন মনে করি। তাঁর মতে, জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
দেখা যায়, খেলা শেষে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, বিকট আওয়াজ সৃষ্টি ও গভীর রাতে বাঁশি বাজানোর কারণে বাড়ছে শব্দদূষণ। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষসহ সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

আরেক স্থানীয় ব্যক্তি মো. মঞ্জু হোসেন বলেন, বিশ্বকাপের সময় বাইকের শব্দদূষণ, মিছিল, বাঁশি বাজানোসহ নানা ধরনের উচ্চ শব্দে পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে। এতে নামাজের সময় এবং স্কুলের সময় বড় ধরনের সমস্যা হয় বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, এ বিশ্বকাপ আসলেই বাইকের শব্দদূষণ, মিছিল বা বিভিন্ন ধরনের বাঁশি বাজনা বাজায়, এতে করে নামাজের সময় বা স্কুলের সময় অনেক সমস্যা ফেস করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, খেলাধুলার আনন্দ যেন সামাজিক বিশৃঙ্খলা, শব্দদূষণ বা আইন লঙ্ঘনের কারণ না হয়, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তারা মনে করেন, বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাস হোক আনন্দের, কিন্তু তা যেন অন্যের ভোগান্তির কারণ না হয়।
কেএম